Breaking News

এল লাফে অনেকটা বাড়ল ভারতীয় নৌসেনার শক্তি, জলে নামল ‘আইএনএস’ দেখুন বিস্তাতির

একলাফে অনেকটা বেড়ে গেল ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) শক্তি। বাহিনীতে যোগ দিল চতুর্থ স্টেলথ স্করপেন-শ্রেণির সাবমেরিন (4th Stealth Scorpene-class submarine) ‘আইএনএস ভেলা’ (INS Vela)।

একলাফে অনেকটা বেড়ে গেল ভারতের নৌশক্তি। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের (Mumbai) মাজাগো ডক থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীতে (Indian Navy) মোতায়েন করা হল ‘আইএনএস ভেলা’ (INS Vela)কে। ভারতীয় নৌসেনাবাহিনীর চতুর্থ স্টেলথ স্করপেন-শ্রেণির সাবমেরিন (4th Stealth Scorpene-class submarine) হল ‘আইএনএস ভেলা। ফরাসী নকশার এই সাবমেরিনটি, ফ্রান্সের নাভাল গ্রুপের সহযোগিতায় তৈরি করেছে, সরকারী সংস্থা মাজাগো ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (Mazagon Dock Shipbuilders Ltd) বা এমডিএল (MDL)। নৌবাহিনী বলেছে, সাবমেরিনটি তৈরিতে অসংখ্য ভারতীয় সংস্থা জড়িত ছিল, যা প্রধানমন্ত্রীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র (Make In India) ধারণাকেই তুলে ধরেছে।

এদিন, আইএনএস ভেলা প্রথমবার জলে নামার পর, ভারতীয় নৌসেনার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সাবমেরিনের নীতি ‘সতর্ক, সাহসী, বিজয়ী’, সাফল্য অর্জনের সময় সাবমেরিনের প্রকৃত মেজাজের প্রতিফলন। নীতিবাক্যটি ক্রুদের সতর্ক থাকতে অনুপ্রাণিত করে এবং তারা প্রতিপক্ষ সাবমেরিনের মুখোমুখি হয়ে, সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে প্রতিবার বিজয়ী হওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে।’

২০০৯ সালের জুলাই মাসে এই সাবমেরিনটির নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ২০১৯ সালে এটির নামকরণ করা হয়েছিল, আইএনএস ভেলা। তারপর সিস্টেম, যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্রশস্ত্রের বিস্তৃত পরীক্ষার পর, চলতি মাসেই এমডিএল-এর পক্ষ থেকে জলযানটি ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এদিন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং (Admiral Karambir Singh), নৌসেনায় সাবমেরিনটির আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি ঘটান। তিনি জানান, সাবমেরিনের সরকমের অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে আইএনএস ভেলার। বর্তমান সময়ের গতিশীল এবং জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে, এই সাবমেরিনের সক্ষমতা এবং ফায়ারপাওয়ার, ভারতের সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনী ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

এর আগেও অবশ্য ভারতীয় নৌসেনায় আইএনএস ভেলা নামে একটি সাবমেরিন ছিল। ১৯৭৩ সালের অগাস্টে মোতায়েন হওয়া সাবমেরিনটি ছিল ভেলা শ্রেণীর প্রধান সাব। নৌসেনার বহু সাবমেরিনার এই সাবমেরিনটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ৩৭ বছরের দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিযানে সাফল্য পেয়েছিল সাবমেরিনটি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে সেটিকে ডিকমিশন করা হয়েছিল। সেটিই ছিল সেই সময় ভারতের দীর্ঘতম অপারেশনাল সাবমেরিন। নতুন আইএনএস ভেলা, তার পূর্বসূরির ঐতিহ্যকেই বয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইএনএস ভেলায় উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও সেন্সর লাগানো হয়েছে। এই সবগুলিই সাবমেরিন ট্যাকটিক্যাল ইন্টিগ্রেটেড কমব্যাট সিস্টেম বা সাবটিকস (SUBTICS)-এ একীভূত করা হয়েছে। একবার লক্ষ্যবস্তুতে নিশানা লাগানোর পর, এই সিস্টেম থেকে প্রয়োজন মতো মিসাইল বা টর্পেডো হামলা চালাতে পারবে। নতুন সাবমেরিনটিতে ভারতে তৈরি ব্যাটারি সেলই লাগানো হয়েছে। এই ব্যাটারিই সাবমেরিনটির নিঃশব্দ প্রপালশন মোটরকে শক্তি যোগায়। এই সাবমেরিনের নির্মাণ ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র দিকে একটি বড় মাইলফলক বলেই, মনে করছে নৌবাহিনী।

About Desk Five

Check Also

তথাগত-দেবলীনার বিচ্ছেদ নিয়ে বোমা ফাটালেন বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়

সোমবারই তথাগত মুখোপাধ্যায়-দেবলীনা দত্তের দাম্পত্য বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে তিনি পোস্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *